সচ্চরিত্রের সুফল


প্রবন্ধটি পড়া হলে, শেয়ার করতে ভুলবেন না

শুরু করছি আল্লাহর নামে যিনি পরম করুণাময়, অতি দয়ালু 

white_flowers_wallpaper_wid

সংকলনে: শাইখ জাহিদুল ইসলাম | সম্পাদনায়: আব্দুল্লাহিল হাদী

সকল প্রশংসা একমাত্র আল্লাহর জন্য। দরূদ ও সালাম বর্ষিত হোক প্রিয় নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম, তাঁর বংশধর, সহচর বৃন্দ ও তাঁর বন্ধুদের উপর। এ লেখাটি ঐ সমস্ত যুবক ও যুবতীদের খিদমতে উপস্থিত করছি, যারা নিজেদেরকে সমস্ত প্রকার কু প্রবৃত্তির চাহিদা এবং নিষিদ্ধ বস্তু থেকে বিরত রাখেছে অথবা বিরত রাখতে চায়। আশা করি তারা এটি পাঠ করে নির্দেশন এবং উৎসাহ পাবে এবং সচ্চরিত্রের উপর প্রতিষ্ঠিত থেকে জীবন পরিচালিত করতে সক্ষম হবে। আল্লাহই একমাত্র সাহায্য কারী।

চরিত্র সৎ ও পবিত্র রাখার ফলাফলগুলো নিম্ন রূপঃ

১) সচ্চরিত্র বান ব্যক্তি জান্নাতে যাবে: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এরশাদ করেছেন:

(مَنْ يَضْمَنْ لِي مَا بَيْنَ لَحْيَيْهِ وَمَا بَيْنَ رِجْلَيْهِ أَضْمَنْ لَهُ الْجَنَّةَ)

“যে ব্যক্তি তার দুই চোয়ালের মধ্যবর্তী স্থান (জিহ্বা) এবং দুই উরুর মধ্যবর্তী স্থান (লজ্জা স্থান) হেফাজতের দায়িত্ব নিবে, আমি তার জন্যে জান্নাতের জামিন হলাম।” (বুখারী, অনুচ্ছেদ: জিহ্বার হেফাজত)

২) সচ্চরিত্র বান ব্যক্তি আল্লাহর আরশের ছায়া পাবে:

আবু হুরায়রা (রা:) হতে বর্ণিত, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন:

سَبْعَةٌ يُظِلُّهُمُ اللَّهُ تَعَالَى فِي ظِلِّهِ يَوْمَ لَا ظِلَّ إِلَّا ظِلُّهُ إِمَامٌ عَادِلٌ وَشَابٌّ نَشَأَ فِي عِبَادَةِ اللَّهِ وَرَجُلٌ قَلْبُهُ مُعَلَّقٌ فِي الْمَسَاجِدِ وَرَجُلَانِ تَحَابَّا فِي اللَّهِ اجْتَمَعَا عَلَيْهِ وَتَفَرَّقَا عَلَيْهِ وَرَجُلٌ دَعَتْهُ امْرَأَةٌ ذَاتُ مَنْصِبٍ وَجَمَالٍ فَقَالَ إِنِّي أَخَافُ اللَّهَ وَرَجُلٌ تَصَدَّقَ بِصَدَقَةٍ فَأَخْفَاهَا حَتَّى لَا تَعْلَمَ شِمَالُهُ مَا تُنْفِقُ يَمِينُهُ وَرَجُلٌ ذَكَرَ اللَّهَ خَالِيًا فَفَاضَتْ عَيْنَاهُ “

“যে দিন আল্লাহর ছায়া ছাড়া কোন ছায়া থাকবেনা সে দিন সাত ব্যক্তিকে আল্লাহ তাঁর আরশের নীচে ছায়া দান করবেন। তারা হলেন:

  • (১) ন্যায় পরায়ণ শাসক
  • (২) যে যুবক তাঁর প্রভুর ইবাদতের মাঝে প্রতিপালিত হয়ে বড় হয়েছে।
  • (৩) যে ব্যক্তির মন সর্বদা মসজিদের সাথে সম্পৃক্ত থাকে।
  • (৪) এমন দুই ব্যক্তি, যারা আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যে একে অপরকে ভালবাসে। আল্লাহর জন্য তারা পরস্পরে একত্রিত হয় এবং আল্লাহর জন্য পরস্পরে বিচ্ছিন্ন হয়।
  • (৫) এমন পুরুষ যাকে একজন সুন্দরী ও সম্ভ্রান্ত বংশের মহিলা নিজের দিকে আহবান করে, আর সে পুরুষ বলে: আমি আল্লাহকে ভয় করি। (তাই তোমার ডাকে সাড়া দেয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয়)।
  • (৬) যে দানশীল ব্যক্তি এমন গোপনে দান করে, ডান হাত দিয়ে যা দান করে, বাম হাত তা অবগত হতে পারেনা। অর্থাৎ তিনি কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্যেই দান করেন। তাই মানুষকে শুনানো বা দেখানোর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করেনা।
  • (৭) যে ব্যক্তি নির্জনে বসে আল্লাহকে স্মরণ করে চোখের পানি প্রবাহিত করে।” (সহীহ বুখারী, অনুচ্ছেদ: ডান হাতে সদকা করা)

৩) সচ্চরিত্রতা পরিবারকে পবিত্র রাখে:

যে ব্যক্তি মানুষের সম্মান-মর্যাদা নষ্ট করবে আল্লাহ তা’আলা তার সম্মান-মর্যাদা নষ্ট করে দিবেন এবং তার গোপনীয়তাকে প্রকাশ করে দিবেন। যেমন ইমাম শাফে’য়ী (রহ:) বলেন, যদি তুমি পবিত্র থাকো তাহলে বাড়িতে তোমাদের পরিবারগণও পবিত্র থাকবে। অত:এব তোমরা সকল অশ্লীল কর্ম-কাণ্ড থেকে দূরে থাক । জিনা একটি ঋণস্বরূপ। তুমি যদি তা কাউকে ঋণ দাও তাহলে জেনে রেখো, তোমার পরিবার দ্বারা হলেও সে ঋণ শোধ করা হবে। যে ব্যক্তি জিনা করবে সেও জিনার শিকার হবে, যদিও তার বাড়ির দেওয়ালের দ্বারাও হয়ে থাকে।

৪) চারিত্রিক পবিত্রতা বিপদ-আপদ থেকে নিরাপদ রাখার মাধ্যম:

চরিত্র পবিত্র রাখার মাধ্যমে যাবতীয় অন্যায়, ফ্যাসাদ ও বিভিন্ন প্রকার ধ্বংসাত্মক রোগ-ব্যাধি, যেমন এইডস, সিফিলিস, গনোরিয়া আর ইত্যাদি যৌন রোগ থেকে নিরাপদ থাকার অন্যতম মাধ্যম।

৫) চারিত্রিক পবিত্রতা আল্লাহর গজব থেকে দূরে রাখে:

উমর (রা:) থেকে বর্ণিত আছে, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন:

(لَمْ تَظْهَرِ الْفَاحِشَةُ فِيْ قَوْمٍ قَطُّ حَتَّى يَعْمَلُوْا بِهَا إَلَّا ظَهَرَ فِيْهُمُ الطَّاعُوْنُ وَالْأَوْجَاعُ الَّتِيْ لَمْ تَكُنْ مَضَتْ فِيْ أَسْلَافِهِمْ)

“যখনই কোন জাতির মাঝে অশ্লীলতা দেখা দিয়েছে, আর উহাতে তারা প্রকাশ্যে ও গোপনে লিপ্ত হয়েছে, তখনই সেই জাতির মধ্যে দেখা দিয়েছে প্লেগ ও এমন এমন জটিল রোগ, যা তাদের পূর্ববর্তী জাতিদের মধ্যে ছিল না” (হাকেম, হাসান, সিলসিলাহ সহীহা)

৬) চরিত্রবান ব্যক্তি দ্বিগুণ সোয়াব পাবে:

কেননা যখনই কোন ফিতনা-ফ্যাসাদ এবং অন্যায় বৃদ্ধি পায়, তখনই তাকওয়া ও ধৈর্যের মাধ্যমে উহা হতে একধাপ উপরে উঠে উক্ত অন্যায় থেকে বেঁচে থাকা আবশ্যক হয়ে যায়, যা সেই ব্যক্তিকে মহান সুবিচারকের পাল্লায় পরিপূর্ণ সোয়াব ও প্রতিদানে বাধিত করে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন:

العِبَادَةُ فِى الْهَرْجِ كَهِجْرَةٍ إِلَيّ

“ফিতনার মধ্যে ইবাদত করা আমার দিকে হিজরত করার ন্যায়। (মুসলিম, অনুচ্ছেদ, ফিতনার সময় ইবাদত করা)  আরও উল্লেখ আছে, ঐ অবস্থায় একজন আমলকীকে পঞ্চাশ জন আমলকারীর আমলের সমপরিমাণ সোয়াব দেয়া হবে।

৭) চরিত্রবান ব্যক্তি ইবাদতে উৎসাহ পায়:

সংযমতা ও পবিত্রতার মাধ্যমে মনোবল ও তাকওয়া বৃদ্ধি পায় এবং কু প্রবৃত্তি পরাভূত হয়। মহান আল্লাহ বলেন:

وَأَمَّا مَنْ خَافَ مَقَامَ رَبِّهِ وَنَهَى النَّفْسَ عَنِ الْهَوَى. فَإِنَّ الْجَنَّةَ هِيَ الْمَأْوَى

“পক্ষান্তরে যে ব্যক্তি নিজ প্রতিপালকের সামনে দাঁড়ানোর ভয় রেখেছে এবং কু প্রবৃত্তি হতে নিজেকে বিরত রেখেছে, অবশ্যই জান্নাতই হবে তার প্রকৃত ঠিকানা।” (সুরা আন্-নাযিয়াহঃ ৪১)

দৃঢ় ইচ্ছাশক্তিই হল চরিত্র গঠনের মূলভিত্তি। আর ইহাই একজন মুসলিম ব্যক্তিকে সকল নিকৃষ্ট চরিত্র থেকে মুক্ত করে উত্তম চরিত্রে ভূষিত করে। সেই সাথে সকল প্রকার ভাল গুণ অর্জনে সহযোগিতা করে ও সর্ব প্রকার নিকৃষ্ট গুণ থেকে দূরে রাখে। আল্লাহ তা’আলা বলেন:

وَمَنْ أَرَادَ الْآخِرَةَ وَسَعَى لَهَا سَعْيَهَا وَهُوَ مُؤْمِنٌ فَأُولَئِكَ كَانَ سَعْيُهُمْ مَشْكُوراً

“যারা বিশ্বাসী হয়ে পরলোক কামনা করে এবং ওর জন্যে যথাযথ চেষ্টা করে তাদের চেষ্টা স্বীকৃত হয়ে থাকে”। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ১৯)

৮) বিপদাপদ থেকে মুক্তি:

যেমনটি অর্জিত হয়েছিল গুহাবাসী তিন ব্যক্তির জন্যে। যখন পাথর গড়িয়ে এসে তাদের গুহার মুখ বন্ধ করে দিয়েছিল। তখন তাদের একজন বলল, হে আল্লাহ! আমার একটি চাচাতো বোন ছিল। তাকে আমি সকল মানুষের চেয়ে বেশী ভাল বাসতাম। এক সময় আমি তার সাথে আমার মনের বাসনা পূরণ করতে ইচ্ছা পোষণ করলে সে প্রত্যাখ্যান করল। কোন এক বছর ভীষণ দুর্ভিক্ষ দেখা দিলে সে আমার কাছে আসল, তখন আমি তাকে ১২০ দিনার দিতে রাজি হলাম। এই শর্তে যে, সে আমার মনের বাসনা পূরণ করার লক্ষ্যে সব ধরনের রাস্তা খুলে দিবে। তখন সে সম্মতি জানাল।অ:পরযখন আমি তার সাথে কাম বাসনায় লিপ্ত হওয়ার পুরাপুরি প্রস্তুত তখন সে আমাকে বলল, আল্লাহকে ভয় কর এবং আমার সতীত্ব নষ্ট করো না। একথা শুনে আমি তাকে ছেড়ে দিলাম। অথচ সে ছিল আমার কাছে সকল মানুষের চেয়ে অধিক প্রিয়। আমি তাকে যে স্বর্ণ-মুদ্রা প্রদান করেছিলাম, তাও ছেড়ে চলে আসি। অতএব হে আল্লাহ! আমি যদি এই কাজটি আপনার সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করে থাকি, তাহলে আমরা যেই সংকটের মধ্যে রয়েছি, সেই সমস্যা-সংকট থেকে আমাদেরকে পুরাপুরি উদ্ধার করুন। তখন পাথরটি তাদের গুহার মুখ থেকে সরে গেল। অতঃপর তারা গুহা থেকে বের হয়ে চলে আসল।

পরিশেষে আল্লাহ তা’আলার কাছে প্রার্থনা জানাই, তিনি যেন আমাদেরকে তাঁর সৎ ও যোগ বান্দাদের অন্তর্ভুক্ত করেন।

হে আল্লাহ আমাদেরকে উপকারী ইলম ও সৎ আমলের তাওফিক দান করুন।সমস্ত মুসলমানদের আমলসমূহ সংশোধন করুন ও তাদের পথ ভ্রষ্টদের সঠিক পথে পরিচালিত করুন ।তাদেরকে পুরাপুরি হেদায়েতের পথে ফিরিয়ে দিন। দরূদ, সালাম ও শান্তি বর্ষিত হউক আমাদের নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) তাঁর পরিবার বর্গ এবং সমস্ত সাহাবাদের উপর। আমিন।

Advertisements

Posted on অক্টোবর 2, 2013, in Others and tagged . Bookmark the permalink. এখানে আপনার মন্তব্য রেখে যান.

একটি মন্তব্য দিনঃ

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out / পরিবর্তন )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out / পরিবর্তন )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out / পরিবর্তন )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out / পরিবর্তন )

Connecting to %s

%d bloggers like this: